গ্রাফিক ডিজাইন কেন শিখবেন?

গ্রাফিক ডিজাইন কেন শিখবেন?
আসলে এই প্রশ্নের নির্দিষ্ট কোন উত্তর নেই। গ্রাফিক ডিজাইন কেন শিখবেন না? সেই প্রশ্ন আগে করা দরকার।
কারন বর্তমান এই বিশ্বায়নের যুগে এসে যদি আপনি এই স্কিল অর্জন না করতে পারেন তাহলে অনেক কাজেই পিছিয়ে যাবেন। তাই আসুন আজকে জেনে নেয়া যাক গ্রাফিক ডিজাইন সম্পর্কে

গ্রাফিক ডিজাইন কি ?
আমাদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ আছে। যারা মনে করে শুধু Logo, Vector, illusions কে গ্রাফিক ডিজাইন মনে করে। কিন্তু আদতে তা নয়। এগুলো হলো গ্রাফিক সেক্টরের কিছু অংশ মাএ। অপরদিকে গ্রাফিক ডিজাইন হলো বৃহৎ একটি প্ল্যাটফর্ম।


গ্রাফিক ও ডিজাইন- এই শব্দ দুটোকে যদি আমরা আলাদা করি। তাহলে গ্রাফিক এর অর্থ হলো, কালার (Colour) এর সংমিশ্রন। আর ডিজাইন (Design) এর অর্থ হলো নকশা।

যদি সংঙ্গায়িত করি, তাহলে এর অর্থ দাড়াবে, অসংখ্য কালারের সংমিশ্রণে কোনো দৃশ্যমান চিএের মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তাকে বলা হয় গ্রাফিক ডিজাইন।

আর যখন কোনো ব্যক্তি,তার ডিজাইন শিল্পকে পূর্নাঙ্গভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। তখন সেই ব্যক্তিকে বলা হয় গ্রাফিক ডিজাইনার।
কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবেন ?
বর্তমানে অনলাইনে অনেক মার্কেটপ্লেস রয়েছে। এই মার্কেটপ্লেস গুলোতে বিভিন্ন ক্যাটাগরির জব আছে। যেমন, Web Design, SEO, App Development, Graphic Design সহো অনেক। এখন প্রশ্ন হলো, এতো ক্যাটাগরির JOB থাকতে। মানুষ কেন গ্রাফিক ডিজাইন শিখবে?

তাহলে শুনুন, Freelancing Market গুলোতে গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা এখন তুঙ্গে। এমন অনেক ফ্রিল্যান্সার আছে, যারা Graphics এর কাজ করে। প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা ইনকাম করছে।

এগুলো গল্প নয়, সত্যি। কারন গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন সবখানেই একটি ১০ টাকা দামের বিস্কুটের প্যাকেট থেকে শুরু করে, কোটি টাকার সিনেমার VFX পর্যন্ত৷ সবখানেই গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন।

হয়তবা আপনার মনে হতে পারে। আজকের দিনে না হয় গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু ভবিষ্যত যদি এই কাজের চাহিদা কমে যায়,তখন?

যদি এমনটা ভেবে থাকেন, তাহলে শুনুন। ভবিষ্যত আমরা কেউ দেখতে পারিনা। কিন্তু নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি। যতোদিন অনলাইন মার্কেটপ্লেস থাকবে। ততোদিন গ্রাফিক ডিজাইনের চাহিদাও সমানভাবে বৃদ্ধি পাবে।

একজন গ্রাফিক ডিজাইনারদের ডিমান্ড কিরকম। তা অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলো তে, একটু ঢু মেরে আসলেই বুঝতে পারবেন।
গ্রাফিক ডিজাইনে কি কি শিখা লাগে ?
গ্রাফিক ডিজাইনের কি কি শিখতে হবে। হয়তবা এমনটা বলা আমাদের ভুল হবে৷ আসলে আপনি ডিজাইনিং এর কোন জায়গা থেকে শেখা শুরু করতে চান। সেটিই হলো সবচেয়ে বড় বিষয়। এমনটা হওয়া স্বাভাবিক যে,আপনি হয়তবা লোগো ডিজাইন দিয়ে শেখা শুরু করলেন।

অপরদিকে কেউ ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন দিয়ে শেখা শুরু করলো। আপনার ডিজাইনিং শিক্ষাটা যেখান থেকেই শুরু হোক না কেন। বর্তমানে সময়ে টিকে থাকতে হলে, আপনাকে নিচে আলোচিত বিষয়গুলো সম্পর্কে অবশ্যই! অবশ্যই!! যথেষ্ট জ্ঞান থাকতে হবে।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে, নিচে যতোগুলো বিষয় আলোচনা করবো। সেগুলোর সবকিছুই আপনাকে শিখতে হবে। কিন্তু এটা সত্য, আলোচিত এই বিষয়গুলোর মধ্যে, আপনি যতোগুলো বিষয় নিজের আয়ওে আনতে পারবেন। আপনার Designing Skills ততো বেশি স্ট্রং হবে।

তো চলুন, এবার জেনে নেয়া যাক। আসলে গ্রাফিক ডিজাইন শিখতে হলে৷ আপনাকে কোন কোন বিষয় গুলো সম্পর্কে শিখতে হবে।

১। ব্যাকগ্রাউন্ট রিমুভঃ গ্রাফিক ডিজাইনের সবচেয়ে সহজ কাজ হলো কোনো পিকচার থেকে Background Remove করা। সদ্য ডিজাইনার হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষের শুরুটা হয় এই কাজটি দিয়ে। তাই যেহেতু আপনিও বিগেনার লেভেলের হয়ে থাকেন।তাহলে আপনাকেও ছোট কাজ থেকে শুরু করে ডিজাইন জগতে পদার্পন করা উচিত।

২। লোগো ডিজাইনঃ কোনো ব্যক্তি যখন একটি কোম্পানি/প্রতিষ্ঠানের শুরু করে। তখন সবাই চায়, তার কোম্পানিটা যেন একটি Brand এ পরিনত হয়। আর বর্তমান সময় অনুযায়ী, কোম্পানির সাথে সাথে একটা আর্কষনীয় লোগো খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।

তাই যতোই সময় যাচ্ছে, ততোই লোগো ডিজাইন এর চাহিদা ক্রমশ বেড়েই চলেছে৷ তাই যদি আপনি এখনও গ্রাফিক ডিজাইন শিখছেন বা শেখা শুরু করবেন৷ তাহলে প্রথমে লোগো ডিজাইন দিয়ে শুরু করাটা উওম হবে।

৩। ভিজিটিং কার্ড ডিজাইনঃ আপনি জানলে অবাক হবেন। বর্তমান সময়ে মানুষ নিজের পরিচিতি প্রদানের জন্য। ভিজিটিং কার্ডের ব্যবহার করে থাকে। তাই ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে এর চাহিদাও বেড়েছে দ্বিগুন হারে।

সেজন্য লোগো ডিজাইনের পাশাপাশি ভিজিটিং কার্ড ডিজাইন সম্পর্কে আপনার ধারনা রাখতে হবে।

৪। পোষ্টার ডিজাইনঃ লোগো এবং ভিজিটিং কার্ড ডিজাইনের পাশাপাশি পোষ্টার ডিজাইন সম্পর্কেও আপনার যথেষ্ট অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। সিনেমার পোষ্টার থেকে শুরু করে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারনা পর্যন্ত। সবখানেই পোষ্টার ডিজাইনের প্রয়োজন রয়েছে।

৫। ভেক্টর আইকন ডিজাইনঃ যখন আপনার গ্রাফিক ডিজাইন সেক্টরে একটু মোটামুটি ধারনা থাকবে। তখন আপনি Vector Icon ডিজাইন শেখা উচিত।এই ভেক্টর আইকন গুলো আপনি অনলাইনের বিভিন্ন মার্কেটে সেল করে। প্রচুর পরিমান অর্থ ইনকাম করতে পারবেন।

৬। কার্টুন পেট্রিয়টঃ কোনো মানুষের পিকচার কিংবা অন্য কোনো পিকচারকে Cartoon এ রুপান্তরিত করাকে বলা হয়, Cartoon Patriot. যদি আপনি গ্রাফিক ডিজাইনের এই কাজটি খুব দক্ষতার সাথে করতে পারেন। তাহলে Buyers – রা আপনাকে ভালে এমাউন্টে কাজ করার জন্য অফার করবে।

৭। ওয়েবসাইট ডিজাইনঃ হয়তোবা আপনার মনে হতে পারে, এই কাজটা তো একজন ওয়েব ডিজাইনার করবে। তাহলে এখানে গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজন হবে কেন? তাহলে শুনুন, Web Designer কোডিং করে একটি ওয়ানডে তৈরি করে, এটা সত্য।

কিন্তু কোডিং করার আগে সেই ওয়েবসাইটের ডিজাইন কিরকম হবে। সেটা নির্ধারন করে দেয় একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।অর্থ্যাৎ এখানেও গ্রাফিক ডিজাইনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

৮। মোবাইল এপস ডিজাইনঃ হাতে স্মার্টফোন নেই,বর্তমান সময়ে এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। আর একটি স্মার্টফোন থাকলে বিভিন্ন ধরনের Third Party Apps ব্যবহার করতে হয়। স্মার্টফোনে ব্যবহৃত এই এপস গুলো দেখতে কিরকম হবে, এপসের মেনু কোথায় থাকবে, কোন কালার (Colour) হবে।

এসব কিছু করে একজন গ্রাফিক ডিজাইনার।প্রতিনিয়ত অসংখ্য এপস পাবলিশ হয়ে থাকে। তাই যদি আপনার মোবাইল এপস ডিজাইনে দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হবে না।

৯। ইউএক্স/ইউআই ডিজাইনঃ গ্রাফিক সেক্টরের অন্যান্য কাজের চেয়ে। সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড রয়েছে একজন Ux/Ui ডিজাইনারের। Buyers- রা এই কাজের জন্য একজন ডিজানারকে প্রচুর পরিমানে অর্থ প্রদান করে। যদি গ্রাফিক সেক্টরে নিজের একটা উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে চান। তাহলে অবশ্যই Ux/Ui Design সম্পর্কে দক্ষ হতে হবে।

 

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top